দুমকির খাল-বিলে নিষিদ্ধ জালের দাপট, বিপন্ন দেশি মাছ

Views: 43

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার খাল-বিল ও জলাশয়ে অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, ম্যাজিক জাল, সুতিজাল, বেহুন্দি, ভেসাল এবং চায়না রিং জাল। এতে ধ্বংস হচ্ছে স্থানীয় জলজ জীববৈচিত্র্য, হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের পরিচিত দেশি মাছ।

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই এইসব নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণে। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এসব জালের মাধ্যমে ডিম ছাড়ার আগেই পোনা মাছ ধরা হচ্ছে, যা মাছের প্রজনন প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। ফলে প্রতি বছর দেশি মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।

দুমকির নতুন বাজার, পীরতলা বাজার, বোর্ড অফিস বাজারসহ বিভিন্ন হাটে-ঘাটে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এসব নিষিদ্ধ জাল। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রকাশ্যেই দেদারসে বিক্রি করছে এগুলো। নিষিদ্ধ জাল বিক্রির পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারও চলছে নির্বিঘ্নে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও পরিবেশের জন্য চরম হুমকি।

এছাড়াও জলাশয় দখল, পুকুর সেচ ও কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করায় জলজ পরিবেশ ভয়াবহভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। এতে এক সময়ের সাধারণ দেশি মাছ যেমন—বোয়াল, গজার, শোল, পাবদা, আইড়, খলসে, পুটি, ভেটকি, বাইলা, টাকি, টেংরা ইত্যাদি এখন বাজারে দুর্লভ হয়ে পড়েছে।

দায়িত্বরত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে শুধু প্রশাসনের পক্ষ থেকে নয়, সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে বলে তিনি আহ্বান জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “মৎস্য বিভাগকে ইতোমধ্যে অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।”

অবিলম্বে এই অনিয়ম ও অপরাধ বন্ধে প্রশাসন, স্থানীয় মৎস্যজীবী ও জনগণের সম্মিলিত পদক্ষেপ ছাড়া দেশি মাছ ও জলজ পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম
image_pdfimage_print

Posted on: August 8, 2025 | Author: Chandradip News24