ভোলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, এতে স্থবির হয়ে পড়েছে পরিবহন ও মাছ ধরার কার্যক্রম। ডিজেল না পেয়ে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক নৌকা ও যানবাহন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার প্রায় তিন লাখ জেলে।
পেট্রোল পাম্পগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে জ্বালানি পাচ্ছেন না। সরকারি নির্ধারিত দামে ডিজেল ১১৫ টাকা হলেও বাজারে তা ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলেরা জানান, “সিন্ডিকেটের কারণে তেল পাচ্ছি না। যে তেল ১ টাকায় পাওয়া যেত, এখন ৫ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে।” এতে মাছ ধরা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম লোকসানে পড়েছেন।
শুধু জেলে নয়, সড়ক ও নৌপথের পরিবহন ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক যানবাহন জ্বালানি না পেয়ে অচল হয়ে পড়েছে, এতে যাত্রী দুর্ভোগ ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, পাম্পে সরবরাহ থাকলেও খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে জ্বালানি সংকট ও সিন্ডিকেটের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভোলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করছে। অবৈধ মজুদ, অতিরিক্ত দামে বিক্রি এবং অননুমোদিত জ্বালানি ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) জানিয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন। সংগঠনটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
ভোলা জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমান বলেন, “অননুমোদিতভাবে কেউ জ্বালানি মজুদ করলে তা জব্দ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট শুধু সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে না, বরং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





