উন্নয়নের সম্ভাবনায় বরগুনা, বাস্তবায়নের অপেক্ষায় মহাপরিকল্পনা

Views: 3

নদী আর সাগরের মাঝে ঘেরা উপকূলীয় জেলা বরগুনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক পিছিয়ে পড়ার চ্যালেঞ্জে রয়েছে। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, সবুজ বন ও নীল জলরাশির মিলনে গড়া এই জনপদ সম্ভাবনাময় হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া এখনও পুরোপুরি পায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বরগুনার উন্নয়ন নিয়ে হতাশা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। শিল্পায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন ও কৃষি-মৎস্য খাতকে কেন্দ্র করে একাধিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাথরঘাটা ও তালতলী উপজেলায় প্রস্তাবিত ইকোনমিক জোনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

পাথরঘাটার ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন এসমে বলেন, “এখানে শিল্পকারখানা হলে তরুণদের আর ঢাকায় যেতে হবে না, স্থানীয়ভাবেই কর্মসংস্থান হবে।”

তবে উন্নয়নের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা। জেলার ভেতরের অধিকাংশ সড়ক এখনো অনুন্নত, আর বাইরের সঙ্গে যোগাযোগও সীমিত। এ পরিস্থিতিতে ৫৯ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন, বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-বরিশাল মহাসড়ক উন্নীতকরণ এবং পায়রা ও বিষখালী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গুরুত্ব পাচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরগুনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না।”

পর্যটন খাতেও বরগুনার রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা। হরিণঘাটা, ফাতরার চর, লালদিয়ার চর, পাখির চর ও নীলিমা পয়েন্টসহ একাধিক প্রাকৃতিক স্থান পর্যটনের জন্য উপযোগী হলেও অবকাঠামোর অভাবে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বরগুনা জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ বলেন, “সঠিক পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বরগুনা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।”

অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি ও মৎস্য খাত। উপকূলীয় অঞ্চলে মহিষ পালন একটি ঐতিহ্য হলেও আধুনিকায়নের অভাবে এই খাত এখনও পিছিয়ে আছে। পাশাপাশি মাছ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় জেলেরা।

তালতলীর জেলে নুরুল ইসলাম বলেন, “মাছ পাই কিন্তু সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় লাভ কমে যায়। ভালো ব্যবস্থা হলে আমরা উপকৃত হবো।”

এছাড়া বরগুনা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ এলাকা হওয়ায় বেড়িবাঁধ শক্তিশালীকরণ, সাইক্লোন শেল্টার বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে রয়েছে আরও বড় প্রত্যাশা। স্থানীয়রা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।

সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন, “সমন্বিত পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়ন ছাড়া বরগুনার উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

সব মিলিয়ে বরগুনা এখন সম্ভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরিকল্পনা রয়েছে, উদ্যোগও শুরু হয়েছে—এখন প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: April 23, 2026 | Author: Chandradip News24