বরিশাল বিভাগে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২,৬৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে একাই ৬১২ জন ২১-৩০ বছর বয়সী, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ২৩ শতাংশ।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত বয়সসীমা ৩১-৪০ বছর—এই বয়সী ৫৫৭ জন (২১ শতাংশ) আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ১১-২০ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা ৫৫২ জন (২১ শতাংশ)।
৪১-৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮২ জন (১৮ শতাংশ)।
এক বছর থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্ত ৩৪২ জন (১৩ শতাংশ)।
অন্যদিকে, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ১৩০ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে, যা মোট আক্রান্তের ৪ শতাংশ।
বরগুনার কাকচিড়া গ্রামের ২৫ বছর বয়সী হাসান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার বাড়ির আশেপাশে ছোট ছোট ডোবা ও মশার আধিক্যের কারণেই এই অবস্থা বলে তিনি জানিয়েছেন। হাসানের বাবা উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, “মশার কামড়ে হাত ফুলে গেছে, আমারও ডেঙ্গু হতে পারে।”
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, তাদের হাসপাতালে বর্তমানে বেশি রোগীই তরুণ বয়সের। কিছু শিশু ও বৃদ্ধ থাকলেও মাঝ বয়সী আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
এডিস মশার আক্রমণ এবং তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনার ব্যাখ্যা দিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, “তরুণরা বেশি উন্মুক্ত স্থানে থাকে, খেলাধুলা করে, ঘোরাঘুরি করে। এসব জায়গায় এডিস মশার উপস্থিতি বেশি থাকায় তারা বেশি আক্রান্ত হয়।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. খান মোশতাক বলেন, “শিশু ও তরুণরা সাধারণত মশারি ছাড়া ঘুমায় এবং দিনের বেলায়ও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ায়, তাই তারাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে।”
বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী বরগুনায়—সংক্রমণের হার ৬২.৬০ শতাংশ। অন্য পাঁচ জেলার মোট রোগীর সংখ্যা ৩৭.৪০ শতাংশ।
চলতি বছরের শুরু থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ৪,৫৮২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৪১৬ জন।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





