বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মধ্য চাত্রিশিরা গ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়ে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই এলাকার বাসিন্দা এবং দুই সন্তানের জনক।
নির্যাতিতার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে প্রতিবেশী পলাশ সরদার কৌশলে ওই নারীকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে এ বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হয়, ফলে ভয়ে ঘটনাটি গোপন রাখেন ওই প্রতিবন্ধী নারী।
সম্প্রতি শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ করে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করান। তখন জানা যায়, তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জানার পর নির্যাতিতাকে জিজ্ঞেস করলে সে ঘটনার বিস্তারিত জানান।
ঘটনার পর এলাকায় বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা নির্যাতিতার পরিবারকে মামলা না করতে নানাভাবে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
নির্যাতিতার মা বলেন, “ঘটনার পর আমার মেয়েকে ভয় দেখানো হয়েছিল বলে সে কিছু জানায়নি। এখন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি অর্থের প্রলোভন ও হুমকির মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
অভিযুক্ত পলাশ সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ওই নারীকে ঠিকমতো চিনি না। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ছালাম মোল্লা ঘটনার মীমাংসার চেষ্টা করার কথা স্বীকার করে বলেন, “আমরা আপোস-মীমাংসার কথা বলেছি, তবে আমি বিস্তারিত জানি না।”
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউর রহমান বলেন, “এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /





