বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশের শাসক নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “জনগণের রক্ত ও ঘামে গড়া এই দেশের শাসকরা মালিক নয়, জনগণের সেবক হবে। জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনায় এ নীতিই অনুসরণ করবে।”
শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জামায়াতের জাতীয় সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “আজ যারা ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের ওপর জুলুম চালায়, টেন্ডার-চাঁদা ও দুর্নীতির ভাগ নেয়, প্লট ও ফ্ল্যাট ভাগ করে নেয়—তারা জনগণের নয়, নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত। আমরা যদি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিই, কারো প্লট বা বাড়ি নয়, বরং জনসমক্ষে স্বচ্ছভাবে কাজের হিসাব তুলে ধরব।”
তিনি আরও বলেন, “একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই শেষ হয়েছে, এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করতে হবে। এই লড়াইয়ে জামায়াত ছিল, আছে এবং থাকবে। জনগণের অধিকার আদায়ে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
সমাবেশের শুরুতে তিনজন কর্মীর মৃত্যুর কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, “এই সমাবেশের পথপরিক্রমায় আমরা তিনজন ভাইকে হারিয়েছি। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন তাদের জান্নাত দান করেন ও পরিবারের সবাইকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দেন।”
তিনি আরও বলেন, “যারা ২০০১, ২০১৩ ও ২০১৮ সালে বুক দিয়ে প্রতিরোধ করেছেন, আন্দোলনে শহীদ, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন—তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। তাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।”
জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা একাত্তরে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের অবদান ভুলে গেলে চলবে না। আজ যারা অহংকারে রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের তুচ্ছ করে, তারা ফ্যাসিবাদী মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। এখন সময় ঐক্যের, বিভেদের নয়।”
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, “এই লড়াই শুধু জামায়াতের নয়, এটি জনগণের লড়াই। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”





