মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আগুন আরও উসকে দিয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মুখোমুখি সংঘর্ষ। ইরান থেকে ছোড়া শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে, যার মধ্যে রাজধানী তেলআবিব অন্যতম। সেখানে অন্তত সাতটি স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতভর এই হামলায় গোটা ইসরায়েলজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দফায় দফায় ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে থাকে এবং পুরো দেশজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরায়েলের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আদম জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে তেলআবিবসহ বিভিন্ন শহরের আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে আরও ডজনখানেক ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। দেশের সব নাগরিককে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ছবি বা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার না করতে, কারণ এতে শত্রুপক্ষ ভবিষ্যতের জন্য কৌশল নির্ধারণ করতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এই হামলাকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব বলে উল্লেখ করেছে। যদিও ইসরায়েল দাবি করছে, অনেক মিসাইল মাঝপথেই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে, ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকলেও, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী আশঙ্কা করছে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একাধিক বিশ্লেষক এই সংঘাতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও কূটনৈতিক সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।





