গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। তিনি বলেছেন, “এই যুদ্ধ কেবল একটি অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে,”— এবং দ্রুত এই অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ বলেন, “গাজায় আমরা যা করছি, তা আর কাজ করছে না। এটি আর কোনো সমাধান দিচ্ছে না। এখন সময় এসেছে এই সামরিক অভিযান থামানোর। যখন কোনো কৌশল ব্যর্থ হয়— তখন তা পরিত্যাগ করাই যুক্তিসংগত।”
হামাস হামলার জবাবে অভিযান, প্রাণ গেল ৫৬ হাজারের বেশি
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে এবং আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এর জবাবে সেদিন থেকেই গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন ৫৬,৩৬৫ জন, আহত হয়েছেন ১,৩২,২৩৯ জন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিহতদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশুও রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পরও ফের হামলা, বাড়ছে মানবিক সংকট
চলমান চাপের মুখে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও, মাত্র দুই মাসের মাথায় গত ১৮ মার্চ আইডিএফ আবারও হামলা শুরু করে। এর পাশাপাশি গাজায় খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ, যার ফলে সেখানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হাতে যেসব জিম্মি রয়েছে, তাদের উদ্ধারের লক্ষ্যেই নতুন করে অভিযান চালানো হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখনো অন্তত ৩৫ জন ইসরায়েলি নাগরিক জীবিত অবস্থায় গাজায় বন্দি রয়েছেন।
“জিম্মিদের উদ্ধারই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত”
গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন লাপিদ। তিনি বলেন, “আমাদের নাগরিকরা এখনও গাজায় বন্দি। এই যুদ্ধ থেকে আমরা আর কী পাচ্ছি, তা কেউই স্পষ্টভাবে বলতে পারছে না। বরং এখন জিম্মিদের উদ্ধারে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া উচিত।”
আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে
ইসরায়েলের চলমান অভিযানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-তে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার। তারা একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও, এখন পর্যন্ত তেল আবিব কিংবা হামাস কেউই সেই প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আন্তর্জাতিক চাপের ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলেও ফলাফল এখনও অনিশ্চিত।





