শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ তীব্র চিকিৎসক সংকট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পুরোনো অবকাঠামো, শয্যা সংকট এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার অভাবে দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫৮ বছর আগে নির্মিত এই হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে সর্বোচ্চ ৫০০ রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে প্রতিদিন ভর্তি থাকছেন প্রায় আড়াই হাজার রোগী। ফলে ওয়ার্ডে জায়গা সংকট দেখা দেওয়ায় রোগীদের অনেককে মেঝে, বারান্দা ও চলাচলের পথেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
এছাড়া বহির্বিভাগেও প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ৭০ শয্যার এই বিভাগে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যা ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি।
চিকিৎসক সংকটও হাসপাতালের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুমোদিত ৩২৩টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২২৯ জন। ফলে ৯৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক মিলিয়ে মোট ২৪৮টি পদের মধ্যে ১৪৬টি এখনো খালি রয়েছে। এতে রোগীদের প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগেও জনবল সংকট রয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও টেকনোলজিস্টের অভাবে অনেক সময় পরীক্ষাসেবা স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ২৪ ঘণ্টা ল্যাব চালু রাখতে ১৮ জন টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন হলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র আটজন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য হাসপাতালে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন ইউনিট (সিসিএম) চালু হয়নি। এছাড়া হৃদরোগীদের জরুরি পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ক্যাথল্যাবও নেই। ফলে এনজিওগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে অনেক রোগীকেই ঢাকায় যেতে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমিত জনবল ও পুরোনো অবকাঠামোর মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে ডা. একেএম মশিউল মুনীর, শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক, জানান যে ক্যাথল্যাব স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং আধুনিক চিকিৎসা ইউনিট চালু না হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সংকট আরও বাড়বে।
“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৬





