বাকেরগঞ্জ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রির সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অফিসের এক কর্মচারীর নগদ টাকা নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ফি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেওয়ার পরও সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ‘অফিস খরচ’সহ বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে অনেক ক্ষেত্রে দলিল নিবন্ধনের কাজ বিলম্বিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে ফেরদৌসী বেগম নামের এক মোহরারকে সরাসরি নগদ অর্থ গ্রহণ করতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ভিডিওতে দলিল সংক্রান্ত কাজের সময় সরাসরি অর্থ লেনদেনের দৃশ্য দেখা যায়। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী দলিল নিবন্ধনের ফি ব্যাংক চালান বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌসী বেগম দাবি করেন, তিনি ফি বাবদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে কোন খাতে সেই অর্থ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ঘটনার পর অফিসের কয়েকজন কর্মচারী ও দলিল লেখক সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আরও সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নকলনবিশ জানান, প্রতিটি দলিলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম চলে আসছে।
এ বিষয়ে মো. যুবায়ের, বাকেরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার, বলেন যে বিষয়টি তার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে পরে প্রয়োজনীয় মন্তব্য করবেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে তন্ময় হালদার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বলেন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত হয়। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”





