পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচ এখন বিশ্ববাজারে

Views: 7

পিরোজপুর-এর উপকূলীয় অঞ্চলে চাষ হওয়া বোম্বাই মরিচ এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিচিতি পাচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় জেলার কৃষকদের মধ্যে এই মরিচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন। স্থানীয়ভাবে “ঘৃতকুমারী মরিচ” নামে পরিচিত এই বিশেষ জাতের মরিচ এখন চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে রপ্তানি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলা ও নাজিরপুর উপজেলা-এর হাজারো পরিবার এখন বোম্বাই মরিচ চাষের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

একসময় বাড়ির উঠানে সীমিত পরিসরে চাষ হওয়া এই মরিচ এখন বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আকারে উৎপাদিত হচ্ছে। নেছারাবাদের আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি ও কামারকাঠি এবং নাজিরপুরের বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়া এলাকায় এখন ব্যাপকভাবে বোম্বাই মরিচের আবাদ হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, এই মরিচের ঝাঁজ বেশি, সুগন্ধ আলাদা এবং ফলনও ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। মৌসুমভেদে প্রতিটি মরিচ তিন থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। একটি গাছ সাধারণত সাত থেকে আট মাস ফলন দেয় এবং প্রতিটি গাছ থেকে ৪০০ থেকে এক হাজার পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যায়।

স্থানীয় কৃষক রঞ্জিত হালদার বলেন, গ্রামের উৎপাদিত মরিচ এখন বিদেশে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাড়ি থেকে মরিচ সংগ্রহ করেন, যা কৃষকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

আরেক কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, গত কয়েক বছরে এই চাষে মানুষের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উন্নত বীজ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে মরিচের আকার ও উৎপাদন বাড়ছে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় নারী কৃষক সবিতা রানী বলেন, পরিবারের সবাই মিলে এই মরিচ চাষ করেন। এর আয় দিয়ে সংসারের খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনা চালানো সম্ভব হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো পিরোজপুর অঞ্চল থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন মরিচ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এই মরিচের চাহিদা আরও বাড়ছে। তবে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে সৌমিত্র সরকার, পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, জানান যে কৃষি বিভাগ বোম্বাই মরিচের আবাদ সম্প্রসারণে কাজ করছে। ভবিষ্যতে বিদেশি বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ তৈরি করা গেলে কৃষকরা আরও ন্যায্যমূল্য পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উপকূলের সাধারণ উঠান থেকে শুরু হওয়া এই মরিচ চাষ এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”

image_pdfimage_print

Posted on: May 10, 2026 | Author: Chandradip News24