বামনা উপজেলায় ভয়াবহ নদীভাঙনে ঝুঁকির মুখে পড়েছে সরকারি খাদ্যগুদাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসন প্রকল্প ও হাজারো মানুষের বসতভিটা। বিষখালী নদী-এর অব্যাহত ভাঙনে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপকূলীয় জেলা বরগুনা দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকলেও চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলো যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একমাত্র সরকারি খাদ্যগুদামটি বিষখালী নদীর তীরে অবস্থিত। সেখানে নিয়মিত দুই থেকে তিন হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ থাকে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে গুদামটি নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যা সরকারের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থায়ও সংকট তৈরি করতে পারে।
খাদ্যগুদামের পাশেই সরকারের নির্মিত আবাসন প্রকল্পে শতাধিক ভূমিহীন পরিবার বসবাস করছে। নদীভাঙনের কারণে এসব পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই নিজেদের ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এছাড়া চেঁচান ও কলাগাছিয়া সংলগ্ন পূর্ব সফিপুর এলাকায় প্রায় সাত হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এসব এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে জীবনযাপন করছেন।
ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা ডিগ্রি কলেজ, বামনা সদর আর রশিদ ফাযিল মাদরাসা এবং ১২ নম্বর বামনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাটও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে, রামনা ইউনিয়ন-এর বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে শত শত বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে গেছে। বহু পরিবার জমিজমা ও বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২২টি পোল্ডারে মোট ৮০৫ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে। বিশেষ করে বামনা লঞ্চঘাট, কলাগাছিয়া খাদ্যগুদাম এলাকা এবং দক্ষিণ রামনার কিছু অংশ সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর নদীভাঙনে মানুষ জমি ও ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা টেকসই হচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য রুহুল আমিন শরিফ বলেন, নদীভাঙন এখন উপকূলীয় মানুষের নিত্যদিনের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধানে এখনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকাত আরা জানান, ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে মো: আবদুল হান্নান প্রধান, বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, জানান যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে এবং নতুন প্রকল্পও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের দাবি, উপকূলীয় এই অঞ্চলকে রক্ষা করতে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫”





