ঝুঁকিতে বরিশাল নগর ভবন, আতঙ্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

Views: 8

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পুরোনো নগর ভবন এখন যেন নিজেই বড় ধরনের ঝুঁকির প্রতীক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল, ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়া এবং কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দেওয়ায় আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউ এলাকায় ১৯৮০-এর দশকে নির্মাণ শুরু হওয়া এ ভবনটি ১৯৯০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। পরে ২০০২ সালে বরিশাল পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে এখান থেকেই নগরবাসীর প্রশাসনিক সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন তলায় ভয়াবহ জরাজীর্ণ অবস্থা দৃশ্যমান। মেঝেতে কংক্রিটের বড় বড় অংশ খসে পড়েছে, ভেঙে গেছে দরজার গ্লাস, দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল। বিশেষ করে বিম ও কলামগুলোতেও দুর্বলতার চিহ্ন দেখা যাওয়ায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে অফিস করতে হয়। হঠাৎ করেই ছাদ থেকে পলেস্তারা পড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও নগরবাসীর সেবা কার্যক্রম বন্ধ না রেখে ঝুঁকি নিয়েই দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ বিভিন্ন সেবার জন্য এই নগর ভবনে আসেন। ফলে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নন, সাধারণ সেবাগ্রহীতারাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, বর্তমান ভবনের অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন স্থানে কার্যালয় স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি জানান, ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দ্রুত নিরাপদ স্থানে অফিস স্থানান্তর করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। নতুন নগর ভবনের পরিকল্পনা ও নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে।

জানা গেছে, নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় নতুন নগর ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নকশা অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের প্রায় আট লাখ মানুষের নাগরিক সেবা প্রদান করছে সিটি করপোরেশন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপদ স্থানে কার্যক্রম স্থানান্তর না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না নগরবাসীও।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: May 7, 2026 | Author: Chandradip News24