দেশপ্রেমের সংজ্ঞা শুধু কোনো একটি দেশের বিরোধিতা করে নির্ধারণ করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, নিজের দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসা এবং দেশের স্বার্থে অবস্থান নেওয়াই প্রকৃত দেশপ্রেম। অন্য দেশের বিরুদ্ধে কথা বললেই কেউ দেশপ্রেমিক হয়ে যায় না।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচা ভবন মিলনায়তনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি ও তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা অতীতে একটি নির্দিষ্ট দেশের নানা কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছেন, এখনও করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। তবে সেটিকে দেশপ্রেমের মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, আগে নিজের দেশের স্বার্থ, জনগণের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে, তারপর অন্য দেশের নীতির বিরোধিতা আসতে পারে।
তরুণদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, তরুণ বয়সেই বুঝে নিতে হবে কারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক এবং কারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। দেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও বাস্তবতা জানার মাধ্যমে সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দেশের স্বার্থে কথা বলতে গিয়ে অন্য কারও স্বার্থে আঘাত লাগলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, দেশকে ভালোবেসে কথা বলাই রাজনীতির মূল শিক্ষা হওয়া উচিত।
গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার অধিকার জনগণের। যার যেটা প্রয়োজন, সে সেটিতেই ভোট দেবে। এই স্বাধীনতা জনগণ অর্জন করেছে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে। কিন্তু জোর করে কাউকে কোনো একটি পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভোটের স্বাধীনতাই একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক শক্তির পরিচায়ক। এই স্বাধীনতাকে খর্ব করার চেষ্টা করলে মানুষ তা মেনে নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





