ঝালকাঠি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে ছুরিকাঘাতে এক আসামি গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের ৪র্থ তলায় জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তির নাম মো. জসিম মাঝি (২৫)। তিনি নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মিরাজ মাঝি বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক পুলক চন্দ্র রায়।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নলছিটির লক্ষণকাঠি গ্রামের ফক্কর মাঝিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় ফক্করের স্ত্রী হালিমা বেগম মামলা করেন। ওই মামলার আসামি ছিলেন জসিম মাঝি, তাঁর বাবা, চাচা ও তিন ভাই। আজ জামিন পেয়ে আদালতকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় বাদীপক্ষের লোকজন তাকে ঘিরে ধরে ছুরিকাঘাত করে। এতে জসিমের নাকে গুরুতর জখম হয়।
দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জহুরুল ইসলাম (২৩), রফিকুল ইসলাম (২৫), পপি আক্তার (২৭) ও মনি আক্তার (৩৫)। তাঁরা সবাই মামলার বাদী হালিমা বেগমের সন্তান।
মিরাজ মাঝি বলেন, “জামিন নিতে এসে আমার ভাই আদালত চত্বরে হামলার শিকার হয়েছে। আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
তবে হালিমা বেগম দাবি করেন, “আমার সন্তানরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। আমাদের সঙ্গে ওই পরিবারের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব আছে, পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।”
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসিমুল হাসান বলেন, “আদালত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।”
আদালত পুলিশের পরিদর্শক পুলক চন্দ্র রায় জানান, “ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে এবং চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আদালতের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





