পটুয়াখালীর লোহালিয়া-দশমিনা-বাউফল সড়ক এখন যেন দুর্ঘটনার মরণফাঁদ। সড়কজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত, ভাঙা পিচঢালাই আর খানাখন্দে পরিণত হয়েছে এই ২৩ কিলোমিটার পথ। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলোতে পানি জমে ছোট ছোট পুকুর তৈরি হয়। ফলে প্রতিনিয়ত আটকে যাচ্ছে বাস, ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। এ কারণে ঘন ঘন ঘটছে দুর্ঘটনা, আহত হচ্ছেন যাত্রীরা। কাদাপানির ছিটায় নষ্ট হচ্ছে পথচারী ও স্থানীয় দোকানপাটের পোশাক ও পণ্যসামগ্রী।
এই সড়কটি লোহালিয়া নদীর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে সদর উপজেলার সঙ্গে দশমিনা, বাউফল, গলাচিপা এবং ভোলা জেলার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য ২০০৫ সালে সড়কটি নির্মাণ করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পরে তা এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সড়কটি চালু হওয়ার পর বাউফল যেতে সময় লাগে মাত্র ৪৫ মিনিট, দশমিনা এক ঘণ্টা এবং গলাচিপা সোয়া ঘণ্টা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন পুরোপুরি ভাঙাচোরা হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
সড়কের শৌলা থেকে দশমিনা সংযোগস্থল পর্যন্ত অন্তত ২০টি বড় গর্ত ও দুই শতাধিক ছোট-বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এসব গর্তে বাস-ট্রাক আটকে গিয়ে প্রায়ই যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। যাত্রীরা নেমে গাড়ি ধাক্কা দিয়ে তুলতে বাধ্য হন। বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে এই পথে যাতায়াত করা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অটোবাইকচালক সুভাষ কুমার বলেন, “এ রাস্তা হইছে ঠিকই; কিন্তু হওয়ার মতো হয় নাই। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।” মিশুক চালক টিটু মিয়ার অভিযোগ, “রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। দুই ইঞ্চি ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় অর্ধেক। তাই এক বছরের মধ্যেই রাস্তায় গর্ত সৃষ্টি হয়।”
স্থানীয় যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিশাল বিশাল গর্তে গাড়ি পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। যাত্রীদের নামিয়ে গাড়ি তুলতে হয়। বৃষ্টির সময় তো পুরো রাস্তাই পুকুর হয়ে যায়।” মোটরসাইকেলচালক মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ জানান, “নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে সড়ক সংস্কারের পরও তা বেশিদিন টেকে না।”
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন আলী মীর বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সড়কটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চালক, যাত্রী ও স্থানীয়দের ভোগান্তি নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে সড়ক সংস্কারের প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করে সংস্কারকাজ শুরু হবে।
বর্তমানে এলাকাবাসী দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন দুর্ঘটনা আর যানজটের কারণে এই সড়ক দিয়ে চলাচল এখন দুর্ভোগের অন্য নাম।




