টানা কয়েক দিনের সংঘাত, হামলা ও পাল্টা হামলায় চরম উত্তেজনায় বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্য। ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৪৫০ জনের বেশি মানুষ। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর আজ সরব হলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাত দিয়ে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় খামেনি বলেন, “মর্যাদাবান হায়দারের নামে, যুদ্ধ শুরু হলো।” ইসলামের চতুর্থ খলিফা ইমাম আলী (রা.)-এর আরেক নাম ‘হায়দার’— যাকে শিয়া মুসলিমরা তাদের প্রথম ইমাম হিসেবে মান্য করে থাকেন।
এটি ছিল খামেনির প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া, যেটি ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুমকির জবাব হিসেবে এসেছে। এর আগে এক পোস্টে ট্রাম্প খামেনিকে সরাসরি ইঙ্গিত করে লেখেন, “আমরা জানি তথাকথিত ‘সর্বোচ্চ নেতা’ কোথায় লুকিয়ে আছেন। তিনি সহজ লক্ষ্যবস্তু, কিন্তু এখনই তাকে আঘাত করব না।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “আমরা চাই না বেসামরিক নাগরিক বা আমেরিকান সেনাদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হোক। আমাদের ধৈর্য ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।”
এমন প্রেক্ষাপটে খামেনির হুঁশিয়ারি ছিল সরাসরি এবং দৃঢ়। ইংরেজিতে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “আমাদের সন্ত্রাসী ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে হবে। আমরা ইহুদিবাদীদের কোনও দয়া দেখাব না।”
উল্লেখ্য, এই মন্তব্যগুলো এমন সময় এসেছে, যখন সংঘাত আরও বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে গড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিক পোস্টে দাবি করেন, “ইরানের আকাশসীমা এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে” এবং পরবর্তীতে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করে আরেকটি পোস্ট দেন।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উদ্বেগ বেড়েছে। যুদ্ধের পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।





