বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অসহযোগ আন্দোলন শুরু

Views: 1

শিক্ষক পদোন্নতি জটিলতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সংহতি প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় শিক্ষকসমাজের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ধিমান কুমার রায়। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে অনেক শিক্ষক পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও ইউজিসির নির্দেশনার অজুহাতে পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছে।

শিক্ষকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আপগ্রেডেশন নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪ সালের মধ্যেই বহু শিক্ষক প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ড ও সিন্ডিকেট সভা আয়োজন না করে বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় ফেলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, একই দাবিতে এর আগে ‘কমপ্লিট একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে কেবল পরীক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হলেও পাঠদানসহ অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম এখনো স্থবির রয়েছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ইউজিসির মতামতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৫টি বিভাগের অধিকাংশেই একাধিক ব্যাচ চালু থাকলেও অনেক বিভাগে শিক্ষক সংখ্যা মাত্র তিন থেকে চারজন। অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ৪০১টি শিক্ষকের পদ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অনুমোদিত রয়েছে মাত্র ২৬৬টি। এছাড়া প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে অন্তত ৫১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোহসীন উদ্দীন, সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান, আইন বিভাগের ডিন সরদার কায়সার আহমেদ, মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, পদোন্নতির বিষয়টি ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তারা সাড়া দেননি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ইঙ্গিত দেন তিনি।

এদিকে আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত সংকট সমাধানের মাধ্যমে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: April 28, 2026 | Author: Chandradip News24