দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর নতুন আশার আলো জাগাচ্ছে ভোলা-বরিশাল সেতু। দেশের একমাত্র বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলা ভোলার মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন এটি। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে প্রায় ২২ লাখ মানুষের জীবনধারা। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভোলার গায়ে ‘বিচ্ছিন্ন’ ট্যাগটি মুছে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ভোলার মানুষের দাবি, শিক্ষা, চিকিৎসা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে যে পশ্চাদপদতা দেখা যায়, তার মূল কারণ সড়ক যোগাযোগের অভাব। বর্তমানে বরিশালের সঙ্গে ভোলার একমাত্র সংযোগ পথ হলো ফেরি সার্ভিস, যা সময়সাপেক্ষ এবং দুর্ভোগে ভরা। দিনের পরে দিন ফেরিঘাটে অপেক্ষা করতে হয়, বিশেষ করে বাস ও ট্রাকচালকদের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মজীবী মানুষরা বলছেন, সন্ধ্যার পর নদীপথে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে তারা ভোগান্তিতে পড়েন। অন্যদিকে, শিল্প উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগে আগ্রহ হারান সড়ক যোগাযোগ না থাকায়। অথচ প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ ভোলা শিল্প স্থাপনের জন্য আদর্শ স্থান।
৮ মে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন এবং সেতু বিভাগের সচিব মো. আবদুর রউফ ভোলা-বরিশাল সেতুর সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। তাদের এই সফর নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে স্থানীয়দের মনে।
সেতু বিভাগের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ কিলোমিটার। প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা, যা সময় ও নকশা অনুযায়ী বাড়তেও বা কমতেও পারে।
ভোলার নাগরিক ও সাংবাদিক নেতারা বলছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ হলেও তার সরাসরি সুবিধা ভোলাবাসী পাননি। অথচ এই জেলা থেকেই গ্যাস, ইলিশ, ধান, গমসহ নানা সম্পদ সরবরাহ হয় সারাদেশে। কিন্তু জেলার মানুষ পায় না কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন।
তারা বলছেন, ভোলা-বরিশাল সেতু হলে শুধু ভোলার নয়, বরিশাল বিভাগসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে বিপ্লব ঘটবে।
সরকারের প্রতি জেলাবাসীর দাবি, আর আশ্বাস নয়—সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা হোক।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /





