বিশ্বব্যাপী খেজুরের চাহিদা অত্যন্ত বেশি, বিশেষ করে সৌদি আরবের খেজুর। পবিত্র রমজান মাসে খেজুর ইফতার সময়ের একটি অপরিহার্য উপকরণ। সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত খেজুরের রয়েছে নানা জাত, আকৃতি, স্বাদ এবং রঙের বৈচিত্র্য, যা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে একটি করে তুলেছে।
বিশ্বব্যাপী রোজাদারেরা নবী কারিম (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে রমজান মাসে খেজুর খাওয়ার ঐতিহ্য রক্ষা করে থাকেন। সৌদি আরবের কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের রিয়াদ অঞ্চল খেজুর উৎপাদনে শীর্ষে, যেখানে বার্ষিক ৪৩৬ হাজার টন খেজুর উৎপাদিত হয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খেজুর উৎপাদন এলাকা হিসেবে আল কাসিম (৩৯১ হাজার টন) এবং মদিনা (২৬৩ হাজার টন) রয়েছে। সৌদি আরবে মোট ৩৭ মিলিয়ন খেজুর গাছ রয়েছে, যা প্রায় তিন বিলিয়ন টন খেজুর উৎপাদন করে।
সৌদি আরবের জনপ্রিয় খেজুরের জাতসমূহ ::
আজওয়া: এটি সৌদি আরবের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেজুর, বিশেষ করে মদিনার খেজুর হিসেবে পরিচিত। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এই খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। এটি কালো রঙের, বিচি ছোট এবং অত্যন্ত সুস্বাদু। দামও অন্যান্য খেজুরের চেয়ে বেশি, প্রতি কেজি ৫০ থেকে ১০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত।
আনবারা: এই খেজুরের আকার বড় এবং রং লালচে বাদামী। এর বিচি ছোট এবং গাঢ় মাংসল স্বাদযুক্ত। সৌদি বাজারে এটি বিশেষ দামি।
সাফাওয়ি: নরম এবং লম্বাটে খেজুর, গাঢ় বাদামী রঙের। মিষ্টি স্বাদসহ উচ্চ মিনারেল সম্পন্ন।
বারহি: ছোট এবং গোলাকার এই খেজুরের রঙ বাদামি ও হলদে। এতে ফাইবার, আয়রন, এবং পটাশিয়ামের উচ্চমাত্রা রয়েছে। কিছুটা টক স্বাদযুক্ত হলদে অংশ এবং মিষ্টি বাদামি অংশের ভারসাম্য।
সেগাই: রিয়াদ অঞ্চলের খেজুর, শুকনো জাত এবং হালকা মিষ্টি স্বাদের। এটি সাধারণত শক্ত, কুড়মুড়ে এবং হলুদ-বাদামি রঙের।
খালাস: এটি সৌদি আরবের অভিজাত খেজুর। গাঢ় বাদামী, মিষ্টি এবং মাখনের গন্ধের সাথে ডিম্বাকৃতির। এটি সৌদি আরবের বিখ্যাত খেজুর জাত।
রমজান মাসে বিশেষ করে সৌদি খেজুরের চাহিদা বেড়ে যায়, এবং বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা এই খেজুরের স্বাদ গ্রহণ করে থাকেন।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





