বরিশালে স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা, রোগীদের ভোগান্তি ও হয়রানির প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা ‘বরিশাল ব্লকেড’ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে টানা ১৫ দিন ধরে। আজ রবিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল-ঢাকা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।
শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন— “যতদিন পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাত সংস্কার না হবে, ততদিন আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, হাতেম আলী কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। সকাল থেকেই সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাব পুরো এলাকা ঘিরে রাখে। নির্ধারিত সময়ের পরও আন্দোলনকারীরা গোলচত্বরে বিক্ষোভ করেন এবং স্লোগান দেন।
এদিকে, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা ব্লকেড কর্মসূচির বিরোধিতা করে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে। জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাদত হোসেন লিটন বলেন— “মেডিক্যালের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হলে হাসপাতালের সামনে করুন, সড়ক অবরোধ করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করার মানে নেই। শ্রমিকদের অপমান করা হলে আমরাও ধর্মঘটে যাব।”
পুলিশ জানায়, চলমান অনার্স পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বিঘ্নিত না হয়, সে জন্যই তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছে। তবে মহাসড়ক অবরোধে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
গত ২৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন প্রথমে হাসপাতাল চত্বরে সীমাবদ্ধ থাকলেও গত বৃহস্পতিবার থেকে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে মহাসড়ক অবরোধে রূপ নেয়। গতকাল পরিবহন শ্রমিক ও আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আজও অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





