বরিশাল নদী বন্দর এখন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ঈদে ঘরে ফিরতে আসা যাত্রীদের সঙ্গে বন্দরে ভোরে একে একে এসে পৌঁছেছে ১১টি লঞ্চ। শনিবার ভোর ৪টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে, ৭টি সরাসরি লঞ্চ এবং আরও ৪টি ভায়া পথের লঞ্চ বরিশালে পৌঁছায়।
পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নদী বন্দরে এমন ভিড় দেখা যায়নি। তবে এবারের ঈদে সেই পুরানো দৃশ্য আবার ফিরেছে। যাত্রীদের পদচারণায় বন্দরের প্রতিটি জায়গা ছিল পূর্ণ, পন্টুনে কোনো জায়গা ছিল না।
বরিশাল নদী বন্দরের ভোরটা একেবারে অন্যরকম, কীর্তনখোলার বুকে ভোরের আলো ফোটার আগেই ঢাকার ভরা লঞ্চগুলোর আলোকসজ্জা দেখা যাচ্ছিল। প্রতি লঞ্চে ছিল মানুষের ভিড়, যার কোলাহলে বন্দরের বাতাস ছিল একেবারে জীবিত।
এবার ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বিশেষ সার্ভিস চালু হয়েছে। ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সার্ভিসে অতিরিক্ত লঞ্চ সংযোজন করা হয়েছে, তবে লঞ্চ মালিকেরা এটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ সার্ভিস হিসেবে মনে করছেন না। বরিশাল নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ এই সিদ্ধান্তকে অমূলক বলে উল্লেখ করেছেন।
নদী বন্দরের কর্মীরা, হকাররা, ভাসমান দোকানিরা সকলেই ব্যস্ত। এক শ্রমিক জানান, “ঈদের সময়ই আমাদের কাজ হয়, আমরা এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি।” তিনি আরও বলেন, “এবার বাড়ি ফিরলে ঈদে আনন্দ হবে, যদিও আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে।”
লঞ্চগুলোর অভ্যন্তরীণ আলোকসজ্জা দেখে মনে হচ্ছিল—নদীর বুকে ছোট ছোট শহর। এমন দৃশ্য অনেক দিন পর দেখা গেছে। তবে এবার লঞ্চে কেবিনের সংখ্যা সীমিত, যাত্রীদের জন্য ডেকের ভাড়া ৪০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১,২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২,৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানায়, পদ্মা সেতু চালুর পর এই নৌপথে যাত্রীসংখ্যা অনেক কমে গেছে। তবে ঈদের সময়ে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এই ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





