বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘিরে সংগঠনটির অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্যাগী ও দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২৭ সদস্যবিশিষ্ট এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণার পরপরই সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বিতর্কিত অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি দ্রুতই সংগঠনের ভেতরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নতুন এই কমিটিতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে অন্য সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তি তাদের জন্য হতাশাজনক। অনেকেই এ ঘটনাকে ‘ছাত্রলীগের পুনর্বাসন’ হিসেবে দেখছেন বলেও মন্তব্য করেন তারা।
অভিযোগে উল্লেখিতদের মধ্যে রয়েছেন সহ-সভাপতি মিঞা বাবুল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন, মো. জিহাদুল ইসলাম, আরমান হোসেন, মো. ইমরান, আব্দুল্লাহ নুর কাফি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ তাকভীর সিয়াম, প্রিতম দাস, বর্ণ বরন সরকার এবং গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রবিন আহমেদ তানভীর।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত বলেন, কমিটিতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতামত যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক তারেক হাসান বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনে অবদান রাখা এবং বিতর্কমুক্ত এমন ব্যক্তিদেরই কমিটিতে রাখা হয়েছে, তারা আগে অন্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে পরামর্শ করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
এদিকে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা, সিনিয়র-জুনিয়র ভারসাম্য রক্ষা না করা এবং কমিটি প্রণয়নে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে—এমন অভিযোগও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সব মিলিয়ে ববি ছাত্রদলের এই নতুন কমিটি সংগঠনটির ভেতরে বিভাজন, আস্থার সংকট এবং সাংগঠনিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





