পটুয়াখালী জেলা বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই জেলার নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। সম্মেলন ঘিরে অনুষ্ঠানস্থলে চলছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে প্রচার-প্রচারণার উচ্ছ্বাস।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা বিএনপি এখন দুটি প্রধান বলয়ে বিভক্ত। একটি বলয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, অন্যদিকে রয়েছেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি। এই দুই বলয়ের অনুসারীরা সম্মেলন সামনে রেখে ডিজিটাল পোস্টার, ব্যানার, ভিডিও কার্ডসহ নানা কৌশলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া, সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি এবং সিনিয়র নেতা মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ পান্না। পান্নাকে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন এ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন, দেলোয়ার হোসেন নান্নু, মনিরুল ইসলাম লিটন, বশির মৃধা এবং তৌফিক আলী খান কবির।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনে জেলার ৮ উপজেলা, ৫ পৌর ও আহ্বায়ক ইউনিটসহ মোট ১৪টি ইউনিটের প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর গোপন ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।
সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, এবিএম মোশারফ হোসেন, মো. হাসান মামুনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্টি জানান, “২৪ জুন সম্মেলনের জন্য কেন্দ্রীয় অফিস থেকে অনুমোদন পেয়েছি। আমরা সম্মেলনকে সফল করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো, সেটি নির্ভর করছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তের ওপর।”
তিনি গ্রুপিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক পরিবার। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, তবে সেটি কোনো বিভাজন নয়।”
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৪ মে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির ১৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে সভাপতি ছিলেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম.এ. রব মিয়া এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মজিবুর রহমান টোটন। সেই কমিটি দায়িত্ব পালন করে ২০২০ সালের ২ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর গঠিত হয় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি, যা বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আসন্ন সম্মেলনের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জেলা বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে নেতাকর্মীরা।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





