পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে বিএনপির চার নেতার ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার দাবি করে আজ শুক্রবার (১৩ জুন) সকাল ১০টায় ইউনিয়নের মধ্য কপুরকাঠি গ্রামে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রিজভি, রিয়াজ হোসেন বাদশা, মো. জসিম উদ্দিন পঞ্চায়েত, মোয়াজ্জেম হোসেন বাদল ও আতাহার উদ্দিন সিকদারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, “প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে অথচ এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ।”
উল্লেখ্য, গত ৮ জুন রাত ৯টার দিকে মধ্য কপুরকাঠি গ্রামের মোকলেস হাওলাদারের বাড়ির সামনে পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় হালিম ও মোকলেসের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল জিয়া সৈনিক দলের সদস্য মো. আরিফ হাজি, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন সবুজ, কালাইয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম রিজভি এবং ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ঈমাম হোসেনকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
এ ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই আজকের মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি হামলাকারীরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হয়, তাহলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা আর মুখ বুজে সহ্য করব না।”
পটুয়াখালীর রাজনীতিতে প্রতিনিয়ত উত্তেজনা বেড়ে চলেছে। হামলা, মামলা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে সাধারণ জনগণের মাঝেও উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।





