নাইকোর সঙ্গে ‘অস্বচ্ছ’ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আটজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায় ও প্রক্রিয়া
খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন জিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার অপর আসামিদের মধ্যে ছিলেন—
- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন,
- জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলাম,
- ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া,
- সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসেন,
- সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী,
- বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক,
- নাইকো রিসোর্সেস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দুদক ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, এ মামলার এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থাকলেও তা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল না। দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারায় আদালত সবাইকে খালাস প্রদান করেছেন।
মামলার পটভূমি
২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৫ মে ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ একই আদালত খালেদা জিয়াসহ ৮ আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করেন।
আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম রায়ের বিষয়ে বলেন, “আদালত এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনসহ সব আসামিকেই খালাস দিয়েছেন। দুদক অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারায় এ রায় এসেছে।”
মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





