যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। তিনি বলেছেন, গাজা থেকে কোনো ফিলিস্তিনিকে সরানো হবে না। তার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে হামাস।
১২ মার্চ, বুধবার, ওভাল অফিসে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প তার এই বক্তব্য দেন। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেমি এক বিবৃতিতে বলেন, “যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য গাজার জনগণকে বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার প্রতিফলন হয়, তবে হামাস তা স্বাগত জানায়।”
এদিকে, দোহায় পাঁচ আরব রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে মিশরের নেতৃত্বে গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, যেখানে ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শক্ত বিরোধিতা করা হয়েছে।
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এর আগে গাজাকে ‘দখল’ করে ‘নিজস্বভাবে পরিচালনা’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সে সময় সৌদি আরব, চীন, রাশিয়া, স্পেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউজে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, “আমরা গাজা দখল করবো এবং নতুনভাবে গড়ে তুলবো। সেখানে অবিস্ফোরিত বোমা ও অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে।”
বিশ্লেষকরা বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। গাজার জনগণকে উচ্ছেদ করা ও মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জোরপূর্বক দখল হিসেবে গণ্য হবে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও জেনেভা কনভেনশন এর গুরুতর লঙ্ঘন।
গাজার অধিকাংশ বাসিন্দা ১৯৪৮ সালের ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয়ের সময় বাস্তুচ্যুত হওয়া ফিলিস্তিনিদের বংশধর, যারা ইসরায়েলের সৃষ্টি ও দখলদারিত্বের শিকার হয়েছিলেন। ফলে তাদের জন্য আরেক দফা উচ্ছেদ মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে।
এর আগে, ট্রাম্প গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বারবার জোরপূর্বক উচ্ছেদের আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবে এবার তিনি তার সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





