অপসারণ হচ্ছে বিতর্কিত সেই পার্ক

Views: 3

বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম সিঅ্যান্ডবি সড়কে নির্মিত বিতর্কিত শিশুপার্ক অপসারণের কাজ শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের অংশ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে পার্ক নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে স্থাপনাটি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে পার্ক নির্মাণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। বিশেষ করে ঢাকা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের অংশ হওয়ায় এলাকায় প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। স্থানীয়দের মতে, শুরু থেকেই প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও স্থান নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা গুরুত্ব পায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটি নির্মাণ করা হয়। সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তার মায়ের নামে পার্কটির নামকরণ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, পার্ক নির্মাণে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং সড়কের অংশসহ আশপাশের কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, পার্ক নির্মাণের সময় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া সড়কের বাইলেন সংকুচিত হওয়ায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময় দুই পাশ থেকে আসা যানবাহনের চাপ সামলাতে গিয়ে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মালিকরা আদালতের দ্বারস্থ হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে নগরবাসীর একাংশ পার্ক অপসারণের দাবি জানাতে থাকেন। গত বছরের বিভিন্ন ঘটনার পর পার্কটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে পুরো স্থাপনা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পার্কের অবশিষ্ট অংশ অপসারণ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়কের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হবে।

সিটি করপোরেশন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনগণের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নগর উন্নয়নের নামে যেন কোনো অপরিকল্পিত বা বিতর্কিত স্থাপনা গড়ে না ওঠে, সে বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, নগর উন্নয়ন কার্যক্রমে পরিকল্পনা, পরিবেশ ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অন্যথায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: May 18, 2026 | Author: Chandradip News24