বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী খালগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একসময় জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ও নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এসব খাল বর্তমানে দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাগজে-কলমে বরিশাল নগরীতে ২৪টি খালের অস্তিত্ব থাকলেও বর্তমানে মাত্র কয়েকটি খাল কোনোরকম টিকে আছে। অধিকাংশ খালই ভরাট, দখল ও ময়লা-আবর্জনায় নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালগুলো কার্যত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্লাস্টিক, পলিথিন ও বিভিন্ন বর্জ্যে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জোয়ারের পানিও অনেক খালে প্রবেশ করতে পারছে না।
নগরীর উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার খালটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভরাট হয়ে পড়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। এই খাল দিয়ে আমানতগঞ্জ, ভাটিখানা ও আশপাশের এলাকার পানি কীর্তনখোলা নদীতে গিয়ে পড়ার কথা থাকলেও পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনা জমে পানির স্বাভাবিক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
একই চিত্র দেখা গেছে জেল খালেও। কিছুদিন আগে পুনঃখনন করা হলেও বর্তমানে খালটি আবারও বর্জ্যে ভরে গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, খননের পর নিয়মিত তদারকি না থাকায় আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে খালগুলো।
পোর্ট রোড খাল বরিশালের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানেও নাব্যতা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খালের পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় ভাটার সময় পণ্যবাহী নৌযান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ ছাড়া রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী ও ভাটার খালেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। অধিকাংশ খালের পানিপ্রবাহ কমে গিয়ে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, খালগুলোর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন করে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে খাল পুনঃখনন, তীর সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পরিবেশবিদদের মতে, নগরীর পরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খালগুলোকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে বরিশাল নগরী আরও বড় পরিবেশগত সংকটের মুখে পড়তে পারে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





