বরগুনায় সরিষার বেশি ফলনে কৃষক খুশি, লাভে মুখরোচক দৃশ্য

Views: 27

বরগুনা জেলায় সরিষার অধিক ফলনে কৃষকেরা খুশি। কুয়াশাছন্ন শীতের সকালে বরগুনার শিশিরে ভেজা হলুদ সরিষা ক্ষেত এক অপরূপ দৃশ্য উপস্থাপন করছে। বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, তালতলী ও বেতাগীর বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এখন সোনালি সরিষার মধ্যে সোনালি স্বপ্ন বুনছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আমন ধান কেটে পতিত ও একফসলি জমিতে সরিষা চাষ বেড়েছে। কম খরচে স্বল্প সময়ে বেশি ফলন পাওয়ায় এটি কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে। এ বছর জেলায় বারি-১৪, ১৭, ১৮, ১৯ এবং টরি-৭সহ উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা চাষ হচ্ছে।

সরিষা তোলার পর একই জমিতে বোরো ধান চাষ করা সম্ভব, যা কৃষককে এক জমিতে দুই ফসলের সুফল দেয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরগুনা সদর উপজেলায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। বিশেষ করে নলটোনা ও বুড়িরচর ইউনিয়নে সরিষার আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য জাতগুলো হলো বারি সরিষা-১৭, বিনা সরিষা-৯ এবং বিনা সরিষা-১১।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুড়িরচর ইউনিয়নের কৃষক হামেদ মৃধা (৬০) খরচ কম হওয়ায় ৪০ কড়া জমিতে সরিষার আবাদ করে মাত্র ১৪,০০০ টাকা খরচে ৪২,০০০ টাকা আয় করেছেন। ঢলুয়া নলটোনা ইউনিয়নের কৃষক রবিউল (৫৫) ২০ কড়া জমিতে ৭,০০০ টাকা খরচ করে তিন গুণ লাভ করেছেন। বেতাগীর গেন্দু মিয়া (৬২) জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার ফলন আরও বাড়বে।

বরগুনা শহরের ভ্রাম্যমাণ সরিষা তেল ব্যবসায়ী কাইয়ুম হোসেন (৫২) বলেন, গত তিন বছর ধরে তিনি সরিষার তেলের ব্যবসা করছেন। বরগুনায় সরিষার পর্যাপ্ত চাষ না হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের পাবনা জেলা থেকে সরিষা কিনে এখানে মেশিনে ভেঙে বিক্রি করেন। প্রতি লিটার সরিষার তেল বিক্রি করেন ২৪০ টাকায়, প্রতিমণ সরিষা ক্রয় করে ৫,০০০ টাকায় বিক্রি করেন। প্রতিদিন ৭–৮ হাজার টাকার তেল বিক্রি হয়।

সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ বছর কৃষকদের প্রণোদনা ও বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নলটোনা ইউনিয়নে গাজীমাহমুদ গ্রামের সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরিষা একটি লাভজনক ফসল। প্রদর্শনী ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহী করা হয়েছে। বিনা চাষেও সরিষার আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর জেলায় সরিষার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। হলুদ ফুলে ভরা সরিষা ক্ষেত শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং কৃষকের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক। সচেতন মহল মনে করছেন, বরগুনার কৃষি বিভাগ উদ্যোগ নিলে জেলায় ১২ মাস সরিষার আবাদ সম্ভব, যা মানুষের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: January 14, 2026 | Author: Chandradip News24