বরিশাল-৫: জামায়াত প্রার্থী রাখবে কি না, এখনো অনিশ্চয়তা

Views: 41

বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেওয়ার প্রশ্নে নতুন করে রাজনৈতিক তর্ক ও আলোচনা চলছে। ইসলামী দলগুলোর জোটগত সমঝোতা, অতীত নির্বাচনী ফলাফল এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক তৎপরতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম উভয়েই বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সম্প্রতি অ্যাডভোকেট হেলালকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই কমিটির অন্য কোনো সদস্য এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। ফলে বরিশাল-৫ আসনে জামায়াত সরাসরি প্রার্থী দেবে কি না, সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

অ্যাডভোকেট হেলাল জানিয়েছেন,“ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ছাড়া আর কেউ একাধিক আসনে মনোনয়ন দাখিল করেননি। সুতরাং একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই থাকে। বরিশাল-৫ আসনটি জোট বিবেচনায় জামায়াতের দাবির মধ্যেই থাকবে। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”

তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এই আসনে প্রার্থী থাকবেন কি না—সে সিদ্ধান্ত এককভাবে জামায়াতের নয়, পুরোপুরি জোটের সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে।

অপরদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ফয়জুল করিম বরিশাল-৫ আসনকে ‘আমিরের আসন’ হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি এই আসনের পাশাপাশি আরও একটি আসনেও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জোটের বৃহত্তর স্বার্থে বরিশাল-৫ আসনে সরাসরি প্রার্থী না দেওয়াই কি বাস্তবসম্মত হবে—এ বিষয়ে জামায়াতের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সদর আসনটি ইসলামী আন্দোলনকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটের মেয়র প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের হেলালকে প্রার্থী করা হতে পারে।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে, ইসলামী আন্দোলনের ফয়জুল করিম ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ১১.৩০% ভোট পেয়ে তৃতীয় হন এবং ২০০৮ সালে ১১.৬০% ভোট পান। ২০১৮ সালে তিনি জামানত হারান। তবে ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৩,৮২৮ ভোট পান।

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইতিহাস বরিশাল সদর আসনে তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ১৯৯১ সালের উপনির্বাচনে প্রার্থী প্রায় ৫ হাজার ভোট পান, ১৯৯৬ সালে প্রায় ৪ হাজার ভোট পান। এরপর দীর্ঘ সময় এই আসনে সরাসরি প্রার্থী দেয়নি জামায়াত।

সব মিলিয়ে বরিশাল-৫ আসন ইসলামী জোট রাজনীতির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জামায়াত প্রার্থী রাখবে নাকি জোটের স্বার্থে আসন ছাড়বে—এ সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক অঙ্গন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

image_pdfimage_print

Posted on: January 12, 2026 | Author: Chandradip News24