বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নিতে জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উপস্থিত হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শোকাবহ পরিবেশে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নেওয়া হয়। এর আগে সকাল থেকেই সেখানে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। দলীয় নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষবারের মতো তাকে বিদায় জানাতে জড়ো হন।
খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আব্দুল মালেক। জানাজা শুরুর আগে পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসভবন থেকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে। তারও আগে সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ওই বাসভবনে পৌঁছায়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও নিকটজনরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জানাজা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই নেত্রীর চিরবিদায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও আবেগ লক্ষ্য করা গেছে।
খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ ঢাকায় উপস্থিত হন ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের প্রতিনিধিরা। বিদেশি প্রতিনিধিদের এই উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তার রাজনৈতিক গুরুত্বের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক জীবনের নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার জানাজা ও দাফনকে ঘিরে পুরো রাজধানীতে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





