মনপুরার ২৪ বছর বয়সী সুজনের জীবন জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময়ে থমকে গেছে। ১০ বছর ধরে ব্রেইন টিউমারের সঙ্গে লড়াই করে তিনি শয্যাশায়ী হয়ে জীবন যাপন করছেন। চিকিৎসার অভাব, অর্থসংকট এবং অবহেলার কারণে তার দিন কেটে যাচ্ছে নিঃশব্দ আর্তনাদে।
মনপুরা উপজেলার ২ নং হাজীরহাট ইউনিয়নের সোনার চর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আজাহার মিয়ার ছেলে সুজন ১৫ বছর বয়সে হঠাৎ ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হন। তার পরিবার প্রাথমিকভাবে প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ করে অস্ত্রোপচার এবং চিকিৎসা করিয়েও সুজনকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। বর্তমানে ডাক্তাররা জানিয়েছেন, সুজনের অপারেশনের জন্য আরও ৩–৪ লাখ টাকা প্রয়োজন। তার বাবা-মা এখন সুজনের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে টাকার সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছেন।
সুজনের কৈশোরের স্বপ্ন ছিল পরিবারের জন্য কাজ করা, সমাজে সম্মান অর্জন করা। কিন্তু হঠাৎ শুরু হয় তীব্র মাথাব্যথা, বমি এবং খিঁচুনি। ঢাকার চিকিৎসক তাকে ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত বলে জানান। প্রথম অস্ত্রোপচার করা হলেও সুজন স্বাভাবিক হতে পারেনি। পরবর্তী চিকিৎসা ও অপারেশনের অভাবে ধীরে ধীরে তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন।
বর্তমানে সুজন কথা বলতে পারেন না, নিজে খেতে পারেন না এবং নড়াচড়াও করতে পারেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসহায়। নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাও তাদের জন্য এক চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন দপ্তরে সহায়তার আবেদন করা হলেও স্থায়ী কোনো সহযোগিতা এখনও পাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু মুসা তৃতীয় জানিয়েছেন, “সুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করা হলে আমরা তাদেরকে সাহায্য করব।”
মনপুরার প্রত্যন্ত এলাকায় পড়ে থাকা সুজনের এই জীবনযুদ্ধ সমাজের নির্মম বাস্তবতার পরিচায়ক। চিকিৎসা ও অর্থের অভাবে প্রতিদিন নীরবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে একটি তরুণ প্রাণ। সুজনের গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়, এটি মানবতার গল্প, অবহেলার গল্প। প্রশ্ন থেকে যায়, আর কত সুজন এইভাবে নিঃশব্দে হারিয়ে যাবে?
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





