বরিশাল অফিস :: বরিশালে হঠাৎ করে তীব্র শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ওই দিন বিকেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরও একদিন আগে, ২৪ ডিসেম্বর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীতের তীব্রতা নগরের তুলনায় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল পুরো জেলা। বেলা ১২টার আগে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের অনুভূতি আরও বেড়ে যায়। কনকনে ঠান্ডায় প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
হঠাৎ করে শীত বাড়ায় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে ৪১টি শয্যার বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিশু রোগী ভর্তি রয়েছে। শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। একই সঙ্গে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছেন বয়স্ক ও বৃদ্ধরাও।
শীতের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষের। নগরীর বিভিন্ন এলাকার অটোরিকশাচালক ও দিনমজুররা জানান, ঠান্ডার কারণে যাত্রী ও কাজের পরিমাণ কমে গেছে। মানুষ ঘর থেকে কম বের হওয়ায় আয়-রোজগারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মাজাহারুল ইসলাম জানান, ডিসেম্বর মাসে এ ধরনের আবহাওয়া স্বাভাবিক। আগামী কয়েকদিন একই রকম ঠান্ডা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আপাতত কোনো শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা নেই।
তীব্র শীতের এই সময়ে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন, গরম কাপড় ব্যবহার ও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





