সিলেটের বিয়ানীবাজার ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা এলাকায় গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে টানা দুই দফায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিট থেকে ২টা ৫৫ মিনিট—মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই বার এই ভূমিকম্পে এলাকার মানুষের মাঝে দুশ্চিন্তা তৈরি হলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্র নিশ্চিত করেছে, এটি হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলে নিয়মিত ঘটে থাকা স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্পের অংশ, যা বড় কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি করে না।
রাত ২টা ৫০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫ এবং উৎস ছিল অঞ্চলটির স্থানীয় ভূ-পৃষ্ঠের নিচে সঞ্চিত চাপ। এরপর মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে রাত ২টা ৫৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দ্বিতীয় দফায় কম্পন অনুভূত হয় মৌলভীবাজারের বড়লেখায়। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩, যা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হলেও বিস্তৃত এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্র জানিয়েছে, অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং টেকটোনিক প্লেটের গতিশীলতার কারণে সিলেট, আসাম, ত্রিপুরা ও মায়ানমার সীমান্তবর্তী এই এলাকাগুলোতে এমন হালকা ভূমিকম্প প্রায় সময়ই ঘটে থাকে। এসব কম্পন সাধারণত ভূ-চাপ নিরসনে ভূমিকা রাখে এবং বড় কোনো ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, মৃদু ভূমিকম্পের ফলে কোনো ধরনের ঝুঁকি বা ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি স্বাভাবিক ভূ-কম্পন কার্যক্রমেরই অংশ। তবুও ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের ঘরবাড়ি নির্মাণে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
মধ্যরাতে হওয়া এই দুই দফার কম্পনে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





