বাউফলে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে

Views: 46

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা জুড়ে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী–২ (বাউফল) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই পুরো এলাকায় অস্বাভাবিক রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। মনোনয়ন ঘোষণার পর টানা তিন দিন—৭, ৮ ও ৯ ডিসেম্বর—বাউফলের ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের ব্যানারে মশাল মিছিল, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিগুলোতে ‘প্রার্থী পরিবর্তন চাই’ স্লোগানে মুখর ছিলেন নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় সূত্র বলছে, বাউফল বিএনপি এখন প্রায় তিনভাগে বিভক্ত। সবচেয়ে বড় অংশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ–দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেন। আরেকটি শক্তিশালী অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম ফারুক আহমেদ তালুকদার। অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে ছোট একটি অংশ বর্তমান মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারের পক্ষে মাঠে রয়েছে। যদিও মুনির হোসেন ও ফারুক সরাসরি মিছিল না করলেও তাদের অনুসারীরা বিরোধিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

মুনিরপন্থী নেতাদের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধা ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ। অপরদিকে, ফারুকপন্থীদের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী পলাশ। স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, শহিদুল আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তারা জানান, ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ঘড়ি মার্কায় নির্বাচন করা থেকে শুরু করে ২০০৮ সালে বিএনপির অফিসিয়াল প্রার্থীর বিপক্ষে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস মার্কায় সমর্থন দেওয়া—এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বারবার দলের ক্ষতি করেছেন। এমনকি ২০১৮ সালের উপজেলা নির্বাচনে নিজের ভাইকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করেও মাঠে নামিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীত মেয়াদে প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও স্মরণ করিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

এ সব কারণে বাউফলের নেতাকর্মীদের বড় অংশ মনে করেন—তালুকদারকে পুনরায় মনোনয়ন দিলে স্থানীয় বিএনপি আরও ভাঙনের মুখে পড়বে। তাই মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে গ্রুপভিত্তিক মশাল মিছিল, বিক্ষোভ এবং অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন তারা। শনিবার থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী দুই গ্রুপ। তাদের দাবি—”বাউফলের বাস্তব অবস্থার আলোকে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করা হোক।”

এদিকে, প্রার্থীতা নিয়ে ব্যাপক বিরোধের মধ্যেও মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার বাউফল পাবলিক মাঠে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, “আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তারেক রহমান। দায়িত্ব পেয়েছি দল থেকে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে চাই।” তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাউফল বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন নির্বাচনের আগে পূর্ণাঙ্গ সংকটে রূপ নেবে কিনা—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

image_pdfimage_print

Posted on: December 11, 2025 | Author: Chandradip News24