পটুয়াখালীর মহিপুরে পর্যটক সেজে অটোরিকশা চালককে ছুরিকাঘাত ও বোরাক অটোগাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তঃজেলা ছিনতাইচক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভোররাতের অন্ধকারে সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনাটি শুধু স্থানীয় জনমনে আতঙ্কই ছড়ায়নি, বরং দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রমও উন্মোচিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল ও দুমকিসহ বিভিন্ন জেলার ছিনতাইচক্রের সদস্য। গ্রেফতাররা হলেন—মহিপুরের নাসির হাওলাদার, শাহীন হাওলাদার, বরগুনার জাকির হোসেন গাজী, বরিশালের লিটন আকন, পটুয়াখালী সদরের জসিম হাওলাদার, আবুল বাশার ও দুমকীর রাহাত হাওলাদার। তাদের মধ্যে রাহাতের বাড়ির আঙিনা থেকে উদ্ধার হয় ছিনতাই করা চারটি বোরাক অটোগাড়ি, যেগুলো বিভিন্ন সময় ছিনতাই করে রাখা হয়েছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৩টায় মহিপুরের লতাচাপলী ইউনিয়নের মম্বিপাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ এলাকায় চালক মুছাকে টার্গেট করে চক্রটি। পর্যটকের পরিচয় দিয়ে গাড়ি ভাড়া নেওয়ার পর একাধিক ব্যক্তি মুছার ওপর হামলা চালায়। তাকে প্রচণ্ড মারধর ও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে তারা অটোগাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুছাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনার পরপরই মহিপুর থানায় পেনাল কোড ৩৯৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও মহিপুর থানা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, কল রেকর্ড ট্রেসিং, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মূল আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরদিনই পটুয়াখালী ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। গ্রেফতার নাসির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী চালক মুছা জানান, তিনি তার বড় ভাইয়ের অটোগাড়িটি চালান। কুয়াকাটা চৌরাস্তায় অবস্থানকালে পর্যটকের পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি তার নম্বর সংগ্রহ করে সূর্যোদয় দেখাতে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পরই তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় অটোগাড়ি ছিনতাই করে রং ও গঠন পরিবর্তন করে নতুনভাবে বিক্রি করত। এতে বহু চালক ক্ষতির শিকার হলেও অধিকাংশ ঘটনাই চক্রের সংগঠিত পরিকল্পনার কারণে গোপন থাকত।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, মামলার তদন্ত চলমান আছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযানে রয়েছে এবং এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





