পটুয়াখালী সদর উপজেলার টোল প্লাজা এলাকার প্রবেশমুখে ভোরের নরম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত বিশেষ অভিযান। গোপন সংবাদের সূত্রে জানা যায়—অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ জাটকা পরিবহন করা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবার সকাল ৮টার দিকে সন্দেহজনক একটি ট্রাক থামিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। মুহূর্তেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—ট্রাক ভর্তি জাটকা।
পরে ওজন অনুযায়ী হিসাব করে দেখা যায়, জব্দ হওয়া জাটকার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫৭০ কেজি, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এতো বিপুল পরিমাণ মাছ একটি ট্রাকে পরিবহন করা হচ্ছিল রাজধানীমুখী রুটে। জাটকা পরিবহনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এমন চেষ্টা দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বড় ধরনের হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে ট্রাকটি থামতেই চালক ও হেল্পার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তল্লাশি শুরু হলে ধরা পড়ে অবৈধ জাটকার পুরো চালান। নিয়ম অনুযায়ী চালক ও হেল্পারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হলেও ট্রাকটি সাময়িকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জাটকার মতো অমূল্য সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় আইনের গুরুত্ব তুলে ধরে অভিযান পরিচালনাকারীরা বলেন, পাচারকারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। দেশের সমুদ্র ও নদী এলাকায় জাটকা রক্ষা অভিযানকে আরও জোরদার করতে হবে, নয়তো ইলিশের উৎপাদন গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পরে জব্দ করা মাছ স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পটুয়াখালী উপজেলার এতিমখানা, সুবিধাবঞ্চিত পরিবার ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতে উপকারভোগীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং এমন মানবিক উদ্যোগের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
অভিযানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এমন অভিযান নিয়মিত চলবে, এবং জাটকা পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




