পার্থে প্রথম দিন থেকে মনে হচ্ছিল, এটা বোধহয় বোলারদের ম্যাচই হতে যাচ্ছে। তৃতীয় ইনিংস পর্যন্ত হাবভাব ছিল তেমনটাই। কিন্তু চতুর্থ ইনিংসে যেন সব পাল্টে গেলো। এক হেডই পাল্টে ফেললো সব হিসেব-নিকেষ। ফলাফল, অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট শেষ হলো মাত্র দু-দিনেই। আর অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডকে হারালো ৮ উইকেটে।
প্রথম ইনিংসে ইংলিশদের স্কোর ছিল একেবারেই টেনেটুনে পাস করার মতো। জ্যাক ক্রাউলি, বেন ডাকেট, জো রুট বা বেন স্টোকস, কেউ-ই নামের সঙ্গে সুবিচার করতে পারেন নি। মাঝে অবশ্য অলি পোপের ৪৬, হ্যারি ব্রুকের ৫২ আর জেমি স্মিথের ৩৩ রানে ভর করে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭২-এ।
মূলত মিচেল স্টার্কের বোলিং তোপে ক্রিজে থিতুই হতে পারেননি ইংলিশ ব্যাটার বেশিরভাগই। অজি এই পেসারই তুলে নেন ৭ উইকেট।
নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অজি ব্যাটারদেরও দেখা গেছে হতশ্রী রূপ। ৩০-এর কোটা পার করতে পারেন নি একজনও। স্টিভেন স্মিথের ১৭, ট্রাভিস হেডের ২১ আর অ্যালেক্স ক্যারির ২৬ রানে ১৩২-এ পৌঁছে অলআউট হয় ‘মাইটি অজি’রা।
ইংল্যান্ড যখন দ্বিতীয় ইনিংসে নামে, তখন অনেকে আশা করেছিলেন, হয়ত এবার অ্যাশেজের উত্তেজনার কিছুটা দেখা মিলতে পারে। কিন্তু তারা হতাশ করে সবমিলিয়ে করতে পারে ১৬৪। অবশ্য ডাকেট, পোপ বা অ্যাটকিনসনরা আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু আশার প্রদীপ নিভে যেতেও সময় লাগেনি।
লক্ষ্য ছোট, কিন্তু আগের তিন ইনিংস দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, কিছু একটা হলেও হতে পারে। কিন্তু ইংল্যান্ড সমর্থকদের হতাশায় ডোবান এক ট্রাভিস হেড। যেখানে পার্থের পিচ মনে হচ্ছিল বোলারদের স্বর্গরাজ্য, সেই পিচকেই রীতিমত ব্যাটিং পিচ বানিয়ে ফেলেন তিনি।তার ৮৩ বলে ১২৩ রানে ৫ দিনের টেস্ট দুই দিনেই শেষ করে ফেলে অজিরা। এ দফায় ওয়ানডাউনে নামা মারনাস লাবুসেনও মোটামুটি মারকুটে স্টাইলে ফিফটি হাঁকান।
প্রথম ইনিংসে ৭ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়ে মিচেল স্টার্ক হয়েছেন ম্যান অফ দ্য ম্যাচ।





