পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় গো-খাদ্যের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় খামারিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। একদিকে খড়, ভুষি ও খৈলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে, অন্যদিকে মাঠে ঘাসের ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতিতে গরু-মহিষ পালন এখন অনেকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের খামারিরা জানান, গত মৌসুমে ধান কাটার পর পর্যাপ্ত খড় মজুত করতে পারেননি তারা। সামান্য যে পরিমাণ খড় ছিল, তা বন্যা ও টানা বৃষ্টিতে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বাজার থেকে চড়া দামে খড়, ভুষি ও খৈল কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মণ খড় বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একইভাবে গমের ভুষি ও সরিষার খৈলের দামও বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।
শ্রীরামপুর গ্রামের খামারি মো. মজিবুর রহমান মৃধা জানান, আগে প্রতি মাসে গরুর খাবারে খরচ হতো ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায়। তার ভাষায়, “এই খরচে গরু পালন করে লাভ করা তো দূরের কথা, টিকে থাকাই কষ্টকর।” তিনি আরও জানান, ছোট খামারিরা অনেকেই লোকসানের ভয়ে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
কৃষক হারুন সিকদার বলেন, খড় ও ঘাসের অভাবে গরু-বাছুর অনেক সময় না খেয়ে থাকে। শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে, দুধও কমে গেছে। “দুরে মাঠের ধানগাছ আর সামান্য কাঁচা ঘাস জোগাড় করে কোনোমতে দিন পার করছি,” বলেন তিনি।
দুমকি উপজেলা সহকারী পশুসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অশোক হালদার জানান, টানা বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মাঠের সবুজ ঘাস নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে গো-খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে শুধু পশুপালন নয়, দুধ উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। গত মাসের তুলনায় স্থানীয় বাজারে দুধের সরবরাহ কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ, ফলে লিটারপ্রতি দুধের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত।
স্থানীয় খামারিরা অভিযোগ করেছেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় তারা কার্যকর সমাধান পাচ্ছেন না। তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আগাম মৌসুমে গো-খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহ দিতে কৃষকদের বীজ ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে আসন্ন শীত মৌসুমে দুমকির গরু খামারগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





