৩৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। আজ (বুধবার) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। বহু বছর পর ছাত্র-ছাত্রীদের সরব উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
চাকসু নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা, নজরদারি এবং পরিবহন সুবিধা।
ভোট অনুষ্ঠিত হবে সমাজ বিজ্ঞান, কলা ও মানববিদ্যা, ব্যবসায় প্রশাসন, আইটি ভবন ও বিজ্ঞান অনুষদের ১৫টি কেন্দ্রে। প্রতিটি কক্ষে থাকবে পাঁচটি ব্যালট বাক্স, যেখানে চারটি চাকসুর জন্য ও একটি হল সংসদের জন্য নির্ধারিত। প্রতিটি কক্ষে ভোট দেবেন ৫০০ জন শিক্ষার্থী, একজন ভোটার চাকসু ও হল মিলে মোট ৪০টি ভোট দিতে পারবেন।
চাকসু ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থী ৯০৮ জন। এর মধ্যে চাকসুর ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪১৫ জন প্রার্থী। শুধু ভিপি পদেই লড়ছেন ২৩ জন, জিএস পদে ২২ জন এবং এজিএস পদে ২১ জন প্রার্থী। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছেন নির্বাহী সদস্য পদে, সংখ্যা ৮৫ জন।
ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ৫২১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৬ হাজার ৮৪ জন এবং ছাত্রী ১১ হাজার ৩২৯ জন। মোট ভোটারের প্রায় ৭০ শতাংশই অনাবাসিক, যারা শহরে অবস্থান করছেন। তাদের যাতায়াত সহজ করতে অতিরিক্ত শাটল ট্রেন ও ১৫টি বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য চাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ ভোটকেন্দ্র। তাদের ভোট প্রদানে সহায়তার জন্য থাকবেন দুইজন নির্বাচন কমিশনার।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ হাজার ২০০ সদস্যের পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া প্রক্টরিয়াল বডির ১২০ সদস্য ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি অনুষদ ভবনে থাকবেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পাশাপাশি চারটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘ ৩৬ বছর পর চাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আমরা চাই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে।”
ভোট গণনা হবে আধুনিক ওএমআর পদ্ধতিতে, যা দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মিলনায়তনে। কমিশন জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
এদিকে ক্যাম্পাসের ৭০ শতাংশ ভোটার শহরে অবস্থান করায় তাদের উপস্থিতি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। তবে কমিশন আশাবাদী—চাকসু নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও ঐতিহাসিক।
চাকসুর ইতিহাসে এটি সপ্তম নির্বাচন। প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭০ সালে, আর সর্বশেষটি ১৯৯০ সালে। দীর্ঘ রাজনৈতিক স্থবিরতার পর এবার নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন গণতান্ত্রিক চর্চার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে এখন শুধু একটাই স্লোগান—
“গণতন্ত্রের সূর্যোদয়, চবিতে আবার ভোটের হাওয়া বইছে।”
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





