ইসরায়েলের ওফার কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি নাগরিক আবদুল্লাহ আবু রাফে নিজের বেঁচে ফেরার অভিজ্ঞতাকে ‘দুর্দান্ত অনুভূতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন,
“আমরা ছিলাম কসাইখানায়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটির নাম ছিল ওফার কারাগার।”
সোমবার (১৩ অক্টোবর) মুক্তির পর তিনি আরও বলেন, এখনো অনেক তরুণ ওই কারাগারে বন্দী রয়েছেন। সেখানে জীবনযাপনের পরিবেশ ছিল নরকের মতো—না ছিল বিছানা, না ছিল পর্যাপ্ত খাবার। প্রতিটি দিন পার করতে হতো ভয়াবহ কষ্টের মধ্যে।
ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময় আটক ১ হাজার ৯৬৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে, বন্দীদের ইতোমধ্যে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
মুক্তিপ্রাপ্ত আরেক বন্দী ইয়াসিন আবু আমরা বলেন,
“ইসরায়েলি কারাগারের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। খাবার, পানি, নির্যাতন—সব কিছুতেই ছিল সীমাহীন কষ্ট। আমাকে চার দিন কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। এখানে এসে যখন দুটি মিষ্টি পেয়েছি, তখন বুঝেছি আমি সত্যিই মুক্ত।”
আরেক বন্দী সাঈদ শুবাইর বলেন,
“এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। শিকলবিহীন সূর্যের আলো দেখা এক অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতা। আমার হাত এখন শৃঙ্খলমুক্ত। স্বাধীনতা অমূল্য।”
ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রায় ২৫০ জন আজীবন ও দীর্ঘমেয়াদী সাজাপ্রাপ্ত বন্দী এবং ১ হাজার ৭১৮ জন গাজা যুদ্ধের সময় আটককৃত ফিলিস্তিনি নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ এই দ্বিতীয় দলটিকে পূর্বে ‘বলপূর্বক নিখোঁজ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।
মুক্তি পাওয়া বন্দীদের চোখে অশ্রু, মুখে হাসি—তারা বলছেন, এই মুক্তি কেবল কারামুক্তি নয়, এটি এক জাতির বেঁচে থাকার প্রতীক।
সূত্র : আল-জাজিরা
(আল-আমিন)





