পটুয়াখালীর বাউফলে তেঁতুলিয়া নদীতে নৌ পুলিশের ধাওয়ার মুখে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন রাসেল খান (৩৫) নামে এক যুবক। শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) পর্যন্ত টানা ৪২ ঘণ্টা পার হলেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
নিখোঁজ রাসেল খান উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড়ডালিমা গ্রামের ইউসুফ খানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দর্জি এবং স্থানীয় বড়ডালিমা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তার সেলাইয়ের দোকান ছিল। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে কম দামে ইলিশ কেনার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় রাসেল তার তিন বন্ধু—রাকিব, হাসান ও মাহবুবকে নিয়ে একটি ছোট ট্রলারে তেঁতুলিয়া নদীতে যান। এ সময় মা ইলিশ রক্ষায় টহলে থাকা নৌ পুলিশের একটি স্পিডবোট তাদের দিকে এগিয়ে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভয় পেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন রাসেল খান। এরপর থেকে তিনি আর উপরে ওঠেননি।
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় জেলেরা, ডুবুরি দল ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে নদীর তীব্র স্রোতের কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ডুবুরি আব্দুল্লাহ ও ইমরান জানান, “সাধারণত এক কিলোমিটারের মধ্যে লাশ ভেসে ওঠে। কিন্তু তেঁতুলিয়া নদীর স্রোত খুব বেশি, তাই তিন থেকে চার কিলোমিটারের মধ্যেও থাকতে পারে। আমরা এখনো অনুসন্ধান চালাচ্ছি।”

কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ মামুন বলেন, “রাসেল খানকে এখনো পাওয়া যায়নি। আশপাশের সব ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে। নদীতে আমাদের টিম টহলে রয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকেও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে খোঁজ চলছে।”
এদিকে নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা নদীর তীরে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয়রা বলছেন, ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন জরুরি হলেও, এমন মানবিক দুর্ঘটনা রোধে আরও সচেতন ও সতর্ক অভিযান পরিচালনা প্রয়োজন।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





