মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে সাম্প্রতিক ফোনালাপে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল টিকটক। দীর্ঘ তিন মাস পর দুই নেতার মধ্যে হওয়া প্রায় দুই ঘণ্টার এই ফোনালাপে শুধু টিকটকই নয়, বরং বাণিজ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মাদক ফেন্টানিল সংকট নিয়েও আলোচনা হয়।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই আলাপে টিকটক নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। ট্রাম্প নিজেও নিশ্চিত করেছেন যে শি জিনপিং প্রাথমিকভাবে চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। তবে চীনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সরাসরি এই চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি। বিষয়টি ঘিরে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
মার্কিন কংগ্রেস ইতোমধ্যেই আইন পাস করেছে যে আগামী জানুয়ারির মধ্যে টিকটকের মার্কিন সম্পদ বিক্রি না হলে দেশটিতে অ্যাপটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ কারণে ট্রাম্প-শির এই ফোনালাপকে চলমান সংকট সমাধানের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই নেতার মধ্যে সরাসরি বৈঠক আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংজুতে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ট্রাম্প আগামী বছর চীন সফর করবেন এবং পরবর্তীতে শি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, টিকটকের মার্কিন সম্পদ স্থানীয় মালিকদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্তের পথে। যদিও অ্যালগরিদম ব্যবহারে এখনও টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান বাইড্যান্সের অংশগ্রহণ থাকবে। এই জায়গাটিই সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে চীন এখনো মার্কিন ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
অন্যদিকে বাইড্যান্স এক বিবৃতিতে ট্রাম্প ও শিকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, মার্কিন ব্যবহারকারীদের জন্য সেবা অব্যাহত রাখতে আইনি কাঠামো মেনে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফোনালাপে টিকটক ছাড়াও বাণিজ্য শুল্ক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর চীনের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করেছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে শুল্কহার তিন অঙ্ক ছাড়িয়েছে। তবে তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দুই দেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়নি। যদিও ওয়াশিংটন সবসময় চীনের সমালোচনা করে আসছে, সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।





