গাজায় খাদ্যকেন্দ্র খোলার ঘোষণা ট্রাম্পের, ৬ কোটি ডলার সহায়তা বরাদ্দ

Views: 42

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় একটি “মুক্ত খাদ্যকেন্দ্র” স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্কটল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় সোমবার (২৮ জুলাই) ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই গাজায় একটি খাদ্যকেন্দ্র খুলতে যাচ্ছি। কেন্দ্রটির নির্মাণ, তত্ত্বাবধান এবং খাদ্য বিতরণের পুরো বিষয়টি দেখভাল করবে যুক্তরাষ্ট্র। এটি হবে একটি মুক্ত কেন্দ্র— গাজার বাসিন্দারা যখন খুশি, তখনই সেখান থেকে প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন, কোনো বাধা থাকবে না।”

তিনি আরও জানান, গাজার মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র এই খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির জন্য প্রাথমিকভাবে ৬ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্প বলেন, “এই মুহূর্তে গাজার মানুষের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা। কারণ সেখানে প্রচুর মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।”

ট্রাম্প প্রথমবারের মতো সরাসরি গাজার তীব্র খাদ্যসংকট স্বীকার করে বলেন, “কিছুদিন আগে টেলিভিশনে গাজার কিছু শিশুকে দেখলাম— তারা খুবই ক্ষুধার্ত ছিল। গাজায় সত্যিকারের খাদ্যসংকট শুরু হয়েছে এবং আপনি একে অস্বীকার করতে পারবেন না।”

সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “ইসরায়েল হামাসকে দমন করতে চাইলে আরও কঠোর লড়াই চালাতে পারে। তবে এখন গাজা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে এবং সেখানে খাদ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”

স্টারমারের সমর্থন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারও ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “গাজায় যা চলছে তা পুরোপুরি মানবসৃষ্ট সংকট এবং এটি এখন আর শুধু সংকট নয়, বরং এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।”

তিনি বলেন, “গাজার প্রকৃত অবস্থা যদি ব্রিটেনের জনগণ নিজের চোখে দেখতে পেত, তাহলে তারা গভীরভাবে নাড়া খেত। এটি এখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”

স্টারমার আরও বলেন, “যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজায় মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসে, তবে এতে দুটি কাজ একসঙ্গে হবে— একদিকে খাদ্য সংকট কমবে, অন্যদিকে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে যুদ্ধ থামানোর জন্য।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের এই অবস্থান তার পূর্ববর্তী মন্তব্যগুলোর তুলনায় এক নতুন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়। তবে এই খাদ্যকেন্দ্র কতটা কার্যকর হবে এবং তা কতটা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে— তা সময়ই বলে দেবে।

image_pdfimage_print

Posted on: July 28, 2025 | Author: Chandradip News