এশিয়া কাপ ক্রিকেট আয়োজনে গভীর অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। আসন্ন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভায় ভারতের কঠোর অবস্থান এবং পাকিস্তানের অনড় মনোভাবের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকায় এই বৈঠকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। ভারত ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও ওমান বিসিসিআইয়ের অবস্থানকে সমর্থন করে ঢাকায় প্রতিনিধি না পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। এই তিনটি দেশের অনুপস্থিতিতে সভার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
এসিসির বার্ষিক সভা ২৪ ও ২৫ জুলাই ঢাকায় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, ভারতের অনুপস্থিতি পুরো বৈঠকের গুরুত্বই কমিয়ে দিয়েছে। এতে এসিসি চেয়ারম্যান ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি মহসিন রাজা নকভি কিছুটা দিশাহারা অবস্থায় রয়েছেন। তিনি নিজে ঢাকায় এসে সময় কাটাচ্ছেন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করছেন।
আরো অনেক সদস্য দেশ—নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, বাহরাইন, মালদ্বীপ, মায়ানমার ও ইন্দোনেশিয়া—ও বৈঠকে অংশ নেওয়া নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন এবং ভারতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। ভারতের অনুপস্থিতিতে এই দেশগুলোর অনেকেই পিছু হটে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের কারণে এশিয়া কাপের আয়োজনে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে হওয়ার কথা ছিল এশিয়া কাপ, কিন্তু পাহেলগামের জঙ্গি হামলা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তা বাতিল হয়েছে। নিরপেক্ষ ভেন্যু ছাড়া ভারত ও পাকিস্তান একসঙ্গে খেলতে পারবে না বলেই ধারণা। এর আগে পিসিবি জানিয়েছে, তারা ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেবে না।
এসিসির একাংশ সদস্য সভাটি সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরিত করার পক্ষে, যাতে ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। কিন্তু মহসিন নকভি ঢাকাতেই সভা আয়োজনের পক্ষে অনড় রয়েছেন। অন্যত্র স্থানান্তর হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ক্ষুব্ধ হতে পারে, কারণ তারা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
এশিয়া কাপের ভবিষ্যৎ এখন বিসিসিআই ও এসিসির পারস্পরিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে। বড় দলগুলো না থাকলে টুর্নামেন্টের গুরুত্ব, স্পন্সরশিপ ও দর্শকসংখ্যা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।





