আইএমএফ ঋণ ছাড়া বাজেট সম্ভব নয় কেন? জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

Views: 22

আসন্ন বাজেট বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সহায়তা নিতে কেন বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। একইসঙ্গে তিনি এবারের বাজেটের অগ্রাধিকার, চ্যালেঞ্জ ও সংস্কার পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন।

এক জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আইএমএফের অর্থ না পেলে বাজেট ছোট করতে হতো অথবা অতিরিক্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ড ইস্যু করতে হতো। এতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়ে যেত। এসব চিন্তা করেই ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাজেটের অগ্রাধিকার কী?

ড. সালেহউদ্দিন জানান, এবারের বাজেটে লক্ষ্য থাকবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে তা ৭.৫ থেকে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।তিনি বলেন, “এবারের বাজেট বাস্তবমুখী হবে, গতানুগতিক হবে না। সমতাভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের পদক্ষেপ থাকবে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

বড় কর্পোরেটের একচেটিয়া সুবিধা বন্ধ করে এবার ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) উন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তৈরি হবে এসএমই ডেটাবেইজ, বাড়বে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা তহবিল।

অলিগার্ক তৈরির নীতি থেকে সরে এসে সকল উদ্যোক্তার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য”—বলেন উপদেষ্টা।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয়

ড. সালেহউদ্দিন দৃঢ়ভাবে বলেন, “এবার বাজেটে কোনোভাবেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হবে না।” জমির কেনাবেচায় প্রকৃত মূল্যে দলিল বাধ্যতামূলক করা হবে এবং করহার কমানো হবে, যাতে অবৈধ লেনদেন বন্ধ হয়।

বিনিয়োগ ও জ্বালানিতে প্রতিশ্রুতি

বিনিয়োগ বাড়াতে জ্বালানি ও সার খাতে কোনো আপস করা হবে না। গ্যাস ও বিদ্যুতে ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে, তবে সিস্টেম লস কমিয়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যাংক খাতে সংস্কার

অবসায়ন বা একীভূতকরণের মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংক সংস্কারে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ কার্যকর করা হয়েছে। ৬টি ব্যাংকের প্রকৃত খেলাপি ঋণ নির্ধারণ করা হয়েছে, বাকিগুলোও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডার হওয়ার সুযোগ, বন্ড বা শেয়ারে পরিশোধের ব্যবস্থা থাকবে। এজন্য আলাদা একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এনবিআর ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন

নতুন বাজেটে এনবিআরকে কেন্দ্র করে আলাদা রাজস্ব বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় একশ্রেণির কর্মকর্তাদের আপত্তি থাকলেও উপদেষ্টা জানিয়ে দিয়েছেন—এখানে কোনো সমঝোতা হবে না।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিচালন বাজেট বাড়ানো হবে, যাতে প্রকল্পনির্ভরতা কমে এবং বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়ে। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ যথেষ্ট হলেও ব্যবস্থাপনা দুর্বল, তাই কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাজেট হবে ব্যবসাবান্ধব, তবে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে। মুষ্টিমেয় বড় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নয়—সমতার ভিত্তিতে বাজেট সাজানো হবে”—জোর দিয়ে বলেন অর্থ উপদেষ্টা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

image_pdfimage_print

Posted on: May 20, 2025 | Author: Chandradip News24