ঝালকাঠির চাষিরা এখন আশাবাদী—তিল চাষ বাড়িয়ে বদলে দেবেন নিজেদের ভাগ্য। কম খরচ, কম রোগবালাই এবং কম পরিচর্যার ফসল হওয়ায় দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে তিল চাষে। লাভ বেশি হওয়ায় এ কৃষি খাতে ফিরছে নতুন প্রাণ।
চলতি ২০২৫ মৌসুমে ঝালকাঠিতে ৩৯৬ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে কাঠালিয়া উপজেলায় তিল চাষের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ঝালকাঠি সদরে ৮৬ হেক্টর, নলছিটিতে ৩৫ হেক্টর, রাজাপুরে ১১০ হেক্টর এবং কাঠালিয়ায় সর্বোচ্চ ১৬৫ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে।
স্থানীয় চাষিরা জানাচ্ছেন, দেশি জাত ছাড়াও বারি তিল-২, বারি তিল-৪ এবং বিনা তিল-৩ জাতের তিল আবাদ করে তারা সফল হয়েছেন। ফসল বপনের তিন মাসের মধ্যেই চাষিরা তিল ঘরে তুলতে পারেন। তিল চাষে অধিক লাভজনক হওয়ার পাশাপাশি রোগবালাই খুব কম হয়, ফলে কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। এতে উৎপাদন খরচও অনেক কমে আসে।
নলছিটি উপজেলার চাষি মো. ফারুক হোসেন বলেন, “তিল চাষে পরিশ্রম কম, আবার লাভ অনেক বেশি। প্রতিবছর আবাদ বাড়াচ্ছি। আশাবাদী, তিলই আমাদের নতুন ভরসা হয়ে উঠবে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। কৃষি উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “তিল চাষ সম্প্রসারণ হলে দেশে ভোজ্যতেলের ঘাটতি পূরণেও ভূমিকা রাখতে পারবে। আমরা চাষিদের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও প্রযুক্তি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”
তিল চাষকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির চাষিরা এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। সহজ চাষাবাদ এবং বাজারে ভালো দামের কারণে এ ফসল হতে পারে আগামী দিনের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /





