পটুয়াখালীর বল্লভপুরে মরুভূমির স্বাদ—সাম্মাম চাষে সাফল্য কামরুজ্জামান জুয়েলের

Views: 91

সোনালি রোদে ঝলমল করছে মাঠজুড়ে এক বিদেশি ফল। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, যেন কোনো মরুভূমির চিত্র। কিন্তু এটি বাস্তবে বাংলাদেশের পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রাম। আর এ দৃশ্যের নেপথ্য নায়ক কামরুজ্জামান জুয়েল—এক ব্যতিক্রমী কৃষি উদ্যোক্তা।

জুয়েল পেশায় একজন ব্যাংকার, বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের জেলা শাখায় সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। তবে হৃদয়ের টানে কৃষিকেই বেছে নিয়েছেন স্বপ্নপূরণের মাধ্যম হিসেবে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে চাষাবাদ করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘হাওলাদার এগ্রো’। এই খামারে তিনি সফলভাবে চাষ করছেন সৌদি আরবের জনপ্রিয় তিন ধরনের সাম্মাম ফল—মাস্ক মেলন, রক মেলন ও হানি ডিউ মেলন।

৪৬ শতক জমির পাঁচটি প্লটে প্রায় দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু করেন এই চাষ। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, যেমন সেক্স ফেরামোন ও হলুদ আঠালো ফাঁদ, মালচিং পেপারসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে গড়ে তোলেন ফলন। বর্তমানে তার খামার থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হচ্ছে সাম্মাম, যা পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তার খামারে ছুটে যাচ্ছেন নানা জেলার মানুষ। কেউ দেখছেন, কেউ কিনছেন—সবাই মুগ্ধ ফলের স্বাদ ও ঘ্রাণে। খামার পরিদর্শনে আসা ভবানী শংকর সিংহ বলেন, “এমন স্বাদ ও রঙের ফল দেশের মাটিতে হবে, ভাবতেই অবাক লাগে।” এক খুচরা ক্রেতা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “ফলটি চমৎকার! শুধু নিজেই আসিনি, বন্ধুদেরও নিয়ে এসেছি। দামও তুলনামূলক কম।”

নিজ অভিজ্ঞতা নিয়ে জুয়েল বলেন, “প্রথম দিকে অনেক প্রতিকূলতা এসেছিল, ক্ষতির মুখেও পড়েছিলাম। কিন্তু ধৈর্য, পরিশ্রম ও পরিকল্পনায় আমি আজ এই জায়গায়। আমাদের দেশে বিদেশি ফল চাষ সম্ভব নয়—এই ভুল ধারণা আমি ভাঙতে চেয়েছি। আগ্রহীদের আমি সবধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”

উল্লেখ্য, হাওলাদার এগ্রো খামারে সাম্মাম ছাড়াও গরু, ছাগল, মাছ, আম ও ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৪-৫ জনের।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “জুয়েল সাহেব আধুনিক কৃষির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সাম্মাম চাষ আমাদের জন্য নতুন হলেও তার সফলতা প্রমাণ করে দেয়, ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব। আমরা তার পাশে আছি।”

কামরুজ্জামান জুয়েলের এই সাফল্য শুধু বল্লভপুর নয়, পুরো পটুয়াখালীকে গর্বিত করেছে। তরুণদের জন্য এটি হতে পারে এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।

মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম
image_pdfimage_print

Posted on: April 22, 2025 | Author: Chandradip News24