মাগুরায় ধর্ষণের শিকার আট বছর বয়সী শশিু আছয়ার মৃত্যুর পর তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবা (১৩ মার্চ) মাগুরার নোমানী ময়দানে। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত জানাজায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ অহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের খলফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজসি আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় একই দিন রাতে, সোনাইকুন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। পরে সোনাইকুন্ডি সম্মিলিত কবরস্থানে শশিু আছয়িকে দাফন করা হয়।
এর আগে, সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে শশিু আছয়ার মরদেহ মাগুরা স্টেডিয়ামে আনা হয়। এই সময় শশিুর সঙ্গে ছিলেন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং শশিুর মা আয়শো আখতার। মাগুরা স্টেডিয়ামে মরদেহ গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ অহিদুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মাহমুদা মনি।
শশিু আছয়া বুধবার (১২ মার্চ) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরে চারবার ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ (হৃৎস্পন্দন বন্ধ) হওয়ায় তার অবস্থা গুরুতর হয়ে যায়।
শশিু আছয়া ৫ মার্চ মাগুরার বোনের বাড়িতে গভীর রাতে ধর্ষণের শিকার হয়। প্রথমে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ধর্ষণের ঘটনায় শশিু আছয়ার মা বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এই মামলায় শশিু আছয়ার ভগ্নপতি সজবি (১৮), ভাই রাতুল (১৭), বাবা ময়িয়া (৪২) এবং মা জাবদো বেগম (৪০)কে গ্রেফতার করেছে।
এ ঘটনার পর, মাগুরা শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে এমন জঘন্য ঘটনা আর কোনো পরিবারে না ঘটে।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম





